মুহম্মদ এহেদী হাসান এর লেখা জনপ্রিয় একটি গল্প


 মহা ভ্রমণ

মুহম্মদ এহেদী হাসান


একদা এক মালিক অনেক খুশি হয়ে ভাবলেন তাঁর দাস-দাসীদেরকে দীর্ঘস্থায়ী এক ভ্রমণে পাঠাবেন,সেখানে তাদেরকে কিছু নিয়মনীতি ও সামান্য সীমাবদ্ধতা দিয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা দিবেন। সেখানে যার যা ইচ্ছে করতে পারবে। তবে হ্যাঁ সবাই এক সাথে যেতে পারবে না!কিছু সংখ্যক যাবে নির্দিষ্ট সময়পর সবাইকে ডেকে নিবেন,তবে হ্যাঁ সবাইকে একসাথে ডেকে নিবেন না। যখন যাকে ইচ্ছে পাঠাবেন এবং যাকে ইচ্ছে ডেকে নিবেন। ছোট বড় কোনো নির্দিষ্ট না। তবে পাঠানোর সময় সবাইকে ছোট বানিয়ে পাঠাবেন, ডাকার সময় ছোট বড় সবাইকে ডেকে নিবেন। পাঠানোর সময় একটা ধারাবাহিকতা অবলম্বন করবেন কিন্তু ভ্রমণের মাঝখানে তথা ভ্রমণরত অবস্থায় যাকে ইচ্ছে ডেকে নিবেন।

মালিক বড় দয়ালু তিনি তাঁর গোলামদের ভ্রমণে পাঠিয়ে স্বাধীনতা দেওয়ার পর যাতে হারিয়ে না যায়,সীমালঙ্ঘন না করে বা অচেনা গন্তব্যে যেতে না পারে তার জন্য তিনি কিছু কাছের প্রিয় ও উত্তম গোলামদেরকে আলাদা রেখে দিবেন এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে তাঁদের মাঝে কখনো একজন বা একাধিকজন পাঠাবেন এবং তাঁরা পথভ্রষ্টদের সঠিক রাস্তা দেখাবেন এবং মালিকের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন।

মালিক এমন জায়গায় পাঠাবেন যেখানে গেলে তাঁর দাস-দাসীরা মায়ায় পড়ে সয়ং মনিবকে ভুলে যেতে পারে তবে সবাই না কিছু সংখ্যক। তাই মালিক তাঁর প্রিয়ো ও উত্তম গোলামদেরকে পাঠাবেন যাতে করে স্মরণ হয় যে তাদের মালিক আছে এবং তাদেরকে চিরদিনের জন্য নয় বরং ভ্রমণ করতে পাঠিয়েছেন এবং যেকোনো মুহূর্তে ডেকে নিতে পারেন।

অনেকেই ভ্রমণের মোহে পড়ে তাঁদের মালিককে ভুলে যাবে এবং সেখানেই চিরদিনের জন্য থেকে যেতে চাইবে এবং ভুলে যাবে যে তারা ভ্রমণে আছে। তাই তারা মালিকের প্রিয়ো গোলামদেরকে মানবে না তবে অনেকেই মানবে।

যারা এই অতি দয়ালু মহান মালিককে সামান্য ভ্রমণে বেড়িয়ে অসীম মালিক ও তাঁর বাড়িকে ভুলে যাবে এবং নিয়ম মানবে না,সীমালঙ্ঘন করবে তাদেরকে শাস্তি দিবেন এবং যারা এতো স্বাধীনতা পেয়েও মালিককে ভুলবে না সীমালঙ্ঘন করবে না,নিয়ম মানবে তাঁদেরকে তিনি পুরস্কৃত করবেন এমনভাবে যা সে ভ্রমণ করতে গিয়েও পায়নি এবং ঐখানে কোনো নিয়মনীতি বাঁধা কিছু থাকবে না যা চাইবে তাই পাবে,অর্থাৎ সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়ে যাবে।


দুঃখজনক হলো ভ্রমণ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ ফিরতে চাইবে না,তাই মহান মালিক এক বিশাল শক্তিশালী আত্মা পাঠাবেন যিনি ভুলে যাওয়া গোলামদেরকে কষ্ট দিয়ে,মেরে তারপর মালিকের দরবারে নিয়ে হাজির হবে এবং যারা ভুলে যায় নি তাদেরকে অতি সাধরে ও মেহমানদের মতো নিয়ে আল্লাহর কাছে হাজির হবেন। যারা মালিককে ভুলে যাবে ও সীমালঙ্ঘন করবে তাদেরকে নেওয়ার পরই মালিক শাস্তি দিবেন এবং যারা মালিককে স্মরণ করেছে, সীমালঙ্ঘন করে নাই এবং নিয়মনীতি মানবে তাঁদেরকে নেওয়ার পরই শান্তি ও পুরস্কার দিবেন।

তারপর একদিন সকল দাস-দাসীদের ভ্রমণ শেষ করে দিবেন, সবাইকে ডেকে নিবেন এবং কথা অনুযায়ী চিরস্থায়ী সুখ,স্বাধীনতা ও শাস্তির ব্যবস্থা করবেন এবং যার যার প্রাপ্য তাঁদেরকে বুঝিয়ে দিবেন।তবে অসংখ্য ভুল করা ও সীমালঙ্ঘনকারীকে  মালিক দয়া করবেন ও মাফ করে দিয়ে সুখ দিবেন।


একদা মালিক এসকল পরীকল্পনা অনুযায়ী শুরু করে দিলেন মহা কার্য।ভ্রমণপিয়াসীদেরকে ধারাবাহিকতায় পাঠাতে পাঠাতে একদিন আমাদেরকেও পাঠালেন। এখন আমরা সবাই ভ্রমণরত আছি, মালিক যখন ইচ্ছে ডেকে নিবেন আমাদের এই ভ্রমণের গন্তব্যস্থল হলো কবর এবং আমাদের ভ্রমণ থেমে যাবে বিশাল শক্তিশালী আত্মার কাছে।

অর্থাৎ আমরা এখন ভ্রমণরত,আমাদের ভ্রমণ চলবে গন্তব্যস্থলে(কবরে) না পৌছানো অব্দি,এবং আমাদের ভ্রমণ থেমে যাবে বিশাল শক্তিশালী আত্মা(মৃত্যুর) কাছে।

সেই মহান মালিক হলো বিশ্বজগতের মনিব আল্লাহ এবং সেই দাস-দাসী হলাম আমরা এবং আল্লাহর প্রিয়ো গোলাম গুলো হচ্ছে নবী,রাসুল,ওলী-আউলিয়া,আলেম,ওলামা এবং ভ্রমণ করতেছি এই বসুন্ধরায়।

No comments