কান্তার জীবন গল্পটি লিখেছেন তরুন লেখক মোহাম্মদ আজিজুল হাকিম
কান্তার জীবন❤️
মোহাম্মদ আজিজুল হাকিম
- আমি কান্তা
প্রথম শ্রেনী পাশ করে, আমি যখন দ্বিতীয় শ্রেণীতে উঠলাম, ঠিক তখনই আমার বাবা মায়ের ডির্ভোস হয়।ডির্ভোসের প্রধান কারণ ছিলো বাবা পরিবারে না জানিয়ে অনেক টাকা লোন নিতো ব্যাংক থেকে এমনকি মানুষের কাছ থেকে ও ধার নিতেন...আর প্রতিনিয়তই বাবার লোনের টাকার পরিমাণ বাড়তেই থাকে। একপর্যায়ে ধারের টাকা দিতে না পেরে বাসা থেকে পালিয়ে যেত, ৩/৪ মাস বাবার কোন খোঁজ থাকতো না। প্রায়ই এমন করতেন। এছাড়াও আরোও অনেক সমস্যা ছিল। আর এই সমস্যার জন্য মা ভুগতেন।তখন আমি খুব ছোট। কিছুই বুঝতাম না। আমার বাবা-মা আলাদা হয়ে যান এবং নতুন করে সংসার শুরু করেন।
আমরা দুটো বোন..আমি ছোট। বাবা-মা আলাদা হয়ে যাওয়ার পর আমি এবং আপু মায়ের কাছেই থেকেই যাই। বাবা-মা'র ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়, তখন আপু এসএসসি পরীক্ষা দিলো।এর মধ্যেই বাবা-মা দুজনেই আবার ও বিয়ে করে এবং নতুন করে সংসার শুরু করেন। বাবা-মায়ের ডির্ভোস কালীন সময়ে আমার বড় বোনের বিবাহ হয়। পরিবারের নোংরা পরিস্থিতি দেখে ভাইয়া সিদ্ধান্ত নেন আপু কে আমাদের বাসায় আর রাখবেন না। আর ভাইয়া ও মোটামোটি ভালো একটা চাকরি পেয়েছেন। এমনিতেই পরিবারে বিয়ের কথাবার্তা চলছিলো...তাই ওনি আর দেরি করেননি। আপুর বিয়ে হয়ে গেল। ভাইয়া এবং আপুর সাত বছরের সম্পর্কের পূর্ণতা পায়।বুঝতেই পারছেন ভাইয়া অনেক আগে থেকেই আমাদের পরিচিত। ছোটবেলা থেকেই আমি এবং আপু ভাইয়াকে দেখে এসেছি। বাবা-মায়ের সম্পর্কের অবনতি হওয়া, অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বলতে গেলে, প্রতিটা সময়ে ভাইয়া আমাদের সাথেই ছিলেন এবং খুব কাছ থেকে সবকিছু দেখেছেন। যাইহোক,আপু কে নিয়ে ভাইয়া চলে যান ওনার বাসায়।
আমি একা এই সংসারে পরে যাই। মা বুটিকস এর ব্যবসা করতেন। ব্যবসা নিয়ে মা সবসময় ব্যস্ত থাকতেন।আর আমি খাওয়া-দাওয়া, ঘুমানো,স্কুলে যাওয়া... এগুলো করেই দিন কাটাচ্ছি।আর তখন থেকেই আমি ঘরের কাজ একটু একটু করে শিখতে শুরু করি এবং মাঝে মাঝে রান্না করারও চেষ্টা করতাম।আর আমার মা বাসায় রান্না ছাড়া তেমন সময় পেত না।
মায়ের নতুন সংসারে আমার সময় গুলো ভালো মন্দ সব মিলিয়ে চলছিলো। নতুন পরিবারে বাবার ভালো লাগার মতো কিছু ছিলাম না। সৎ বাবা আর সন্তানের সম্পর্ক যেমন হয় আরকি।দূরব্যহারটাই বেশি ছিল।
২০১৪ সালের ২২ শে ডিসেম্ভর এ আমার ছোট ভাইয়ের জন্ম হয়।ওর নাম লাবিব।লাবিবের সব দায়িত্ব আমার হাতে।আর বললাম ই তো মা সবসময় ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। লাবিব কে রাখা কষ্ট ছিল,তাই আমি দূরের স্কুল ছেড়ে এলাকার একটি স্কুলে ভর্তি হই। লাবিব কে আমি সকাল ৬ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত রাখতাম।২০ মিনিটের মধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে স্কুলে দৌড়।এমন ছিলো সবকিছু। আমি বুঝি একটা ভেঙ্গে যাওয়ার পরিবারের কত কষ্ট। আর কত কি শুনতে হয়। আমার মা অনেক কষ্ট করেছেন আমাদের জন্য, দিনরাত না খেয়ে প্রচুর পরিশ্রম করতেন, শুধুমাত্র আমাদের কে ভালো রাখার জন্য।আমরা যেন কখনো কষ্ট না পাই , কষ্টে না থাকি। আম্মু কে নিয়ে খারাপ চিন্তা ভাবনা না করাই ভালো। মহান আল্লাহ তায়ালা আমার মা কে সবসময় সুস্থ রাখুক।
আমার বাবার পরিবারের কেউ জানতো না।এটা যে মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে।তাই ঈদে মা-বাবা ও ছোট ভাই বাড়ি চলে যেত।বাসায় আমি একাই থাকতাম। ২০২০ সালে করোনা'র কারনে মা ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যেতে পারেনি।এই একটা ঈদ আমি মায়ের সঙ্গে কাটাতে পেরেছি। আলহামদুলিল্লাহ।তো সব মিলিয়ে না কেমন জানি একটা খারাপ লাগা বলেন অথবা অভিমান বলেন মনের মধ্যে এইসব কাজ করতো। বাসায় একা একা থাকা, বাবার কাছ থেকে আদর যত্ন না পাওয়া, আম্মু আমাকে সময় দিতে না পারা , প্রতিটা সন্তান ই চায় বাবা-মায়ের কাছে থাকতে , তাদের আদর যত্ন পেতে, একসাথে বসে সবাই খাবার খাওয়া, টিভি দেখা, কথাবার্তা বলা, ঘুরতে যাওয়া , আত্মীয়-স্বজন এর বাসায় বেড়াতে যাওয়া। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ছিল ব্যতিক্রম, এগুলো থেকে আমি বঞ্চিত।আর প্রতিটা মুহূর্ত যেন আমাকে মনে করিয়ে দিতো যে, আমি একটি ভেঙ্গে যাওয়া পরিবারের মেয়ে।তাই সবসময় সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখতাম।
এর মধ্যে সুখবর হলো আমার আপুর ২০১৫ সালের জুলাই মাসের ২৭ তারিখ মেয়ে বেবি হলো।আপু বিয়ের পর ও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আপুর যখন ক্লাশ থাকতো অথবা পরীক্ষা চলতো ঐ সময়টাতে আমি আপুর বাসায় গিয়ে থাকতাম বেবির জন্য। কারন আমি না গেলে বেবি কে দেখা শোনার মতো কেউ ছিল না।
আর আমার স্কুলে আমাকে কেউ চিনতো ই না।কারন সকাল ৬ টা থেকে স্কুল ছিলো। দুপুরে স্কুল থেকে এসে কোচিংয়ে যেতাম । কোচিং শেষ করে ঐ অবস্থাতেই রাতে বাডডায় রওনা দিতাম নিজের বাসায়। সবকিছু ঠিকঠাক ই ছিল জানেন...!!?
কিন্তু হঠাৎ বুঝতে পারি আমার বোনের জামাইর খারাপ নজর পরেছে আমার দিকে। বিভিন্ন ভাবে আমার শরীরে স্পর্শ করা শুরু করে ভাইয়া।আমি বাসায় ঘুমিয়ে থাকলে সে এসে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করে...সে এক ভয়ংকর ঘটনা ছিল আমার জীবনে... আমার খুব ভয় লাগতো । ভাইয়াকে খুব ভালো করেই আমাদের পরিবারের সবাই চিনতাম, ওনার চরিত্র এতোটাই নোংরা কখনোই জানতাম না।আমি ওনাকে নিজের বড় ভাই মনে করতাম। ওনার চরিত্র এতোটাই নোংরা ছিল,আর আমার সাথে এই ধরনের আচরণ করবে কখনো কল্পনাও করিনি..আমি তখন ই ডিপরেশনে ভুগতে শুরু করি...
আমি প্রতিনিয়তই খানিকটা অপ্রকৃতস্থ থাকি। পুরুষ দেখলেই আমার গা ঘিনঘিন করে ওঠে। মনে হয়, আমাকে কেউ বিশ্রীভাবে ছুঁয়ে দিচ্ছে, আমার কলিজা খুবলে খাচ্ছে, আমাকে গলাটিপে মেরে ফেলছে।
আমার ঘেন্না হয়, আমার গা গুলিয়ে বমি আসে, আমার রাস্তায় বের হতে ইচ্ছে করেনা, পৃথিবীর সবচাইতে সাধু পুরুষটিকে দেখলেও আমার সমস্ত শরীরে নাড়িছেঁড়া ব্যথা করে ওঠে, পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু আছে তা আমি ভুলে যাই, আমার সারাক্ষণ দমবন্ধ লাগে, আমার নিঃশ্বাস নিতে ইচ্ছে করেনা।
ওনার কথা মনে হলেই আমার যে আসলে কেমন লাগে, তা বোঝানোর মতন কোনো ভাষার জন্ম হয়নি পৃথিবীতে, আমি নিশ্চিত জানি।
আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমত ছিলো আমার উপরে। ভাইয়া আমার কোনো ক্ষতি করতে পারে নাই,আর ঐ ধরনের পরিস্থিতি ও হয়নি।আমি কাউকে কিছ
Post a Comment