মুহম্মদ এহেদী হাসান এর লেখা জনপ্রিয় একটি প্রবন্ধ জীবনে জড়তা সৃষ্টির উৎস


 জীবনে জড়তা সৃষ্টির উৎস

মুহম্মদ এহেদী হাসান 


আমাদের জীবনে হাজারো বাধার অন্যতম একটি বাধা নিয়ে কিছু বলবো যা মানব জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য একটা বিষয়। তা হলো জীবনে চলার পথে জড়তা।


এই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় কিছুটা অভিভাবকদের অগ্রাহ্যের কারণে। ঘুছিয়ে প্রমিত বা চলিত ভাষায় ও জনসম্মুখে দাঁড়িয়ে কথা বলা একটা আর্ট বা প্রতিভা যা সবাই পারে না! এটা এক বিশাল জড়তা। এটা চাকুরি ক্ষেত্রেও বিশাল প্রভাব ফেলে। এক কথায় বলতে গেলে জীবনে চলার পথে বিরাট নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এই জড়তা।


এগুলোর জন্য কিছু কারণ উল্লেখ করছি-

প্রথমত,অভিভাবক দায়ী। কেন? কারণ একটা বাচ্চা প্রথমে সবকিছু পরিবার থেকেই শিখে।পরিবার যদি তার সাথে প্রমিত বা চলিত ভাষায় কথা বলে তাহলে সেও ধীরে ধীরে প্রমিত বা চলিত ভাষা শিখবে। জনসম্মুখে কথা বলা নিয়েও অভিভাবককে দায়ী করবো! কারণ বাচ্চাকে যখন বিদ্যালয়ে নিয়ে ভর্তি করায় তখন থেকেই যদি বিদ্যালয়ে আয়োজিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে অংশগ্রহণ করায় তাহলে বাচ্চাটার জনসম্মুখে কথা বলাটা অভ্যাসে পরিণত হয়। কিন্ত আমাদের সকল অভিভাবক তা করে না। যদি বাচ্চা অনীহা বা অমত পোষণ করে তাহলে অভিভাবক আর জোর দেয় না।অভিভাবক ভাবে সামান্য পুরষ্কারে আর কি হবে?এত মানুষের মাঝে কি আর জিতবে?ইত্যাদি প্রশ্ন মনের মধ্যে লালন করে উদাসীনভাবে বলে থাকুক সে যেহেতু অমত কি আর করার! এই একটা মূল্যবান বিষয় এরিয়ে চলে। তাই অভিভাবক কে দায়ী করলাম। কারণ এইখান থেকেই বাচ্চাদের মধ্যে একটা জড়তা সৃষ্টি হয়। এটা যতোই দিন যায় ততোই জড়তা বাড়ে আর এক সময় জনসম্মুখে যেতে পারে না কথা বলতে পারে না এমনকি একগুয়ে হয়ে যায়! যদি অভিভাবক তখনই জোরদার করতো এবং বাধ্যতা মূলকভাবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করাতো হার জিত বা পুরষ্কারে নজর না দিতো তাহলে আর এই জড়তা সৃষ্টি হতো না। বরং আরও সুবিধা হতো জীবনে চলার পথে। 


দ্বিতীয়ত,শিক্ষক অনেকটা দায়ী! কারণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ প্রতিটা শিশুকে বা শিক্ষার্থীদেরকে বাধ্য করে না অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। যার কারণে জড়তা আরও বাড়তে থাকে এমনকি একজন শিক্ষকের সামনে যেতে বা দাঁড়াতে চায় না এবং সামনে দাঁড়িয়ে ঘুছিয়ে কথা বলতে পারে না। এইদিক থেকে শিক্ষকদের দায়ী করলাম।


তৃতীয়ত, শিক্ষক প্যানেল। কারণে বলবো সকল বিদ্যালয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয় না। বছরে একবার মাত্র অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অনেক বিদ্যালয়ে। তারওপর থাকে না সবকিছুর আয়োজন। এরপরে বলবো বিভিন্ন ক্লাবের কথা যা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজন বা প্রতিষ্ঠা করে না।যেমন-বিতর্ক, ইংরেজি ভাষা,কম্পিউটার ,স্কাউট, ইত্যাদি। যার মাধ্যমে যেমন জ্ঞান বাড়ে সাথে জড়তাও কমে যায়। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এগুলো প্রতিষ্ঠা করা অবশ্যই অবশ্যই কর্তব্য বলে আমি মনে করি। এতে একজন ছাত্রের জ্ঞান প্রসার, ঘুছিয়ে কথা বলার অভ্যাস ও জনসম্মুখে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে কথা বলতে বিশাল ভূমিকা রাখবে। এমনকি সাপ্তাহিক, মাসিক এবং বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে।


চতুর্থত, প্রতিষ্ঠাতা বা বিদ্যালয়ের সভাপতি সাথে বিদ্যালয়ের প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটি। যা এক কথায় বললে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কারণ তাঁরা এই বিষয় গুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেন না। এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ নেন না। শুধু নামে মাত্রই তাঁরা তাদের আসনে বসে থাকেন।


এই জড়তা কাটিয়ে ওঠার জন্য কিছুটা সাহায্য করে থাকে গ্রামে মক্তবের শিক্ষক - ইমাম বা হাফেজ সাহেব। তিনি যেভাবে সাহায্য করে থাকেন তা হলো পড়ানো শেষে ধারাবাহিকভাবে দাঁড় করিয়ে জোর গলায় পড়াতে বলেন। এতে অনেকটা সুবিধা হয় জনসম্মুখে কথা বলতে।


পরিশেষে, সকল শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সকল অভিভাবকদের যথাযথভাবে তাদের মৌলিক দায়িত্ব পালন করে বাচ্চা ও যুবসমাজের এই জড়তা বা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে কাজ করে বিরাট ভূমিকা পালনের জন্য আহ্বান করছি।

No comments